• হোম
  •   

    A PHP Error was encountered

    Severity: Notice

    Message: Undefined variable: NewsCategory

    Filename: views/startemplate.php

    Line Number: 107

অধ্যাপক ড. এস এম নজরুল ইসলাম

০৯ সেপ্টেম্বর,২০১২

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সংকট কাটছে শুরু করেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি মুখে প্রো-ভিসি অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে অপসারণ করা হয়েছে। ভিসি অধ্যাপক ড. এসএম নজরুল ইসলামকে রেখেই সোমবার থেকে শ্রেণীকক্ষে ফিরছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি অগ্রাহ্য করে নিজের পদে শুরু থেকে অনড় ভিসি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। বলে এসেছেন- কেবল প্রধানমন্ত্রী চাইলেই তিনি সরে যেতে রাজি। ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার প্রাক্কালে রোববার রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম- এর নিজস্ব প্রতিবেদক শামছুজ্জামান নাঈম- এর সাথে একান্ত আলাপে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে।

তিনি বলেন, ‘নিজ সন্তান শিক্ষার্থীর শরীর থেকে পিতৃতুল্য অভিভাবক শিক্ষকের সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত বের এবং তা সিঁড়িতে ফেলে দেওয়াকে আমার কাছে জঘণ্য মনে হয়েছে। তাদের এই কর্মকাণ্ড মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।’

বুয়েটের আন্দোলন নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে ভিসি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম সহসা কারও সাথে কথা বলতে চাননি। তবে রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম-এর সাথে আলাপে তার কথায় উঠে এসেছে আক্ষেপের সাথে অভিযোগও।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘শ্রেণীকক্ষে ফিরতে যেখানে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, তারপরও কেন শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষে ফিরছে না বুঝে উঠতে পারছি না। এমতাবস্থায় আমাদেরই বা কি করার থাকতে পারে?’

ভিসি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘মামলা প্রত্যাহারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রো-ভিসিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি খুব দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ছাত্রছাত্রীদের এখন আর দেরি করা ঠিক হবে না। তারা দ্রুত ক্লাসে ফিরে আসুক এই প্রত্যাশা আমাদের।’

হতাশা প্রকাশ করে ভিসি বলেন, ‘এই বুয়েটে ৪৭টি বছর কাটিয়ে দিলাম। আমি কখনও দেখিনি- শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যূথবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করেছে। ’৬৬, ’৬৯ কিংবা ’৭১- এর আন্দোলনেও এমনটি দেখিনি। বুয়েটে অলিখিত একটি রীতি চলে আসছে। এখানে শিক্ষক এবং ছাত্ররা বেশ দূরত্ব বজায় রেখে চলেন। সহজে বললে ছাত্ররা শিক্ষকদের অনেক ভয় করে চলেন।’

তিনি জানান, ‘ল্যাবরেটরি, ক্লাস পরীক্ষাসহ সকল বিষয়ের মার্ক ছিল শিক্ষকদের হাতে। তারা সব সময় ভয় পেত যে, স্যারদের সামনে কোনো বেয়াদবি করলে নম্বর পাওয়া যাবে না। এমনকি দুষ্টু ছাত্ররাও শিক্ষকদের ভয় করে। আন্দোলন তো দূরের কথা, শিক্ষক-ছাত্ররা একসাথে বসবে তা ভাবাই যায় না।’

অধ্যাপাক নজরুল স্মৃতির পাতা উল্টে বলেন, ’৬৯-এর গণআন্দোলন বুয়েট থেকেই শুরু হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নয়। কেন না সেই মুহূর্তে ঢাবি থেকে আন্দোলন করা সহজ ব্যাপার ছিল না। ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য নিজের কর্মকাণ্ডের খণ্ডিত অংশ তুলে ধরে তিনি জানান, ‘ছাত্র এবং শিক্ষকদের মাঝে সেতুবন্ধনে আমি ২১টি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছি। এতে করে সম্পর্ক অনেকটা শিথিল হয়ে এসেছে। আজ কিনা শিক্ষার্থীরাই আমার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে!’

ভিসি বলেন, ‘শিক্ষকদের দাবি ছিল- অবসরের সময়সীমা ৬৫ বছর করতে হবে। আমি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং সংসদীয় কমিটির সাথে আলোচনা করে তা করেছি। মূলত ওই আন্দোলনের রেশ ধরেই শিক্ষকেরা গত মার্চ মাসে আবার আন্দোলনের ডাক দেয়।’

আন্দোলন দমনে নিজের কৌশলে ভুল ছিল স্বীকার করে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আন্দোলন শুরুর পর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল আমার ভুল সিদ্ধান্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আবাসিক হলগুলো বন্ধ করলে আন্দোলন আজ এই পর্যায়ে আসতে পারত না। ছাত্ররা মূলত হলে থেকে সংগঠিত হয়ে আন্দোলন করার সুযোগ পেয়েছে।’

তবে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আসলে তাদের আন্দোলন সম্পর্কে কিছুই জানে না। তাদের যদি জিজ্ঞাসা করা হয়- তোমরা কেন এসেছ? তাহলে তারা বলে- বড় ভাইয়েরা এসেছে, তাই আমরাও এসেছি। বড় ভাইদের ডাকেই আসতে বাধ্য হয়েছি।’

ভিসি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘শিক্ষকরা ডাকলেই ছাত্ররা আন্দোলনে আসবে- এই ব্যাপারটি আমার একদমই মাথায় আসেনি। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকরা পাঠদানের পরিবর্তে শুধু ভিসি এবং প্রো-ভিসির বিরুদ্ধে কথা বলতেন। তারা বলতেন- ভিসি এবং প্রো-ভিসির দুর্নীতির কারণে বুয়েট ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আর এভাবেই তারা ছাত্রদের মাথা দখল করেছে।’

তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার ফল দুর্নীতির সাথে আমার কোনোভাবেই জড়িত থাকার কথা নয়। কেন না এই বিষয়গুলো থাকে শিক্ষকদের হাতে। সুতরাং এ বিষয়ে আমাকে জড়িয়ে আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।’

নজরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘তাছাড়া দুর্নীতির ব্যাপারে প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল, শিক্ষক সমিতি তা মানেনি। পরে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীরা তো জানে আমি কেমন লোক। তাদের সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই ভালো। অনেক ছাত্রতো আমার বাসায় এসে খাওয়া-দাওয়াও করেছে। আসল কথা হলো আওয়ামী লীগ আমাকে নিয়োগ দিয়েছে, তাই এই আওয়ামীপন্থী ভিসিকে অপসারণ করতে হবে- আন্দোলনের এটাই মূল উদ্দেশ্য।’

ভিসি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার যা মনে হয়- এই আন্দোলনে বাহির থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে। একটি রাজনৈতিক দল এদের সকল প্রকার রসদ সরবরাহ করে আসছে। আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা মনে করছেন, আমি যদি চলে যাই, তাহলে তারা অতি তাড়াতাড়ি ভিসি হতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘এই বুয়েটের প্রায় সকল পদে আমার চাকরি করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি কখনও রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে নিয়োগ, পদোন্নতি কিংবা কোনো প্রকার সুযোগ দেইনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনেকে আমাকে বলেন, এই লোক অমুক দলের তাকে চাকরি, পদোন্নতি কিংবা কোনো প্রকার সুযোগ দেওয়া যাবে না। কিন্তু আমি তা কখনও করিনি। আজ আমি কোনো দল মেইনটেন না করার কারণে আমার পক্ষে কেউ আসছে না।’

প্রশাসনিক রদবদল সম্পর্কে ভিসি বলেন, ‘তা যদি আইনবর্হিভূত হয় তাহলে আমি তা থেকে বিরত থাকব। আর সরকার যদি উচিৎ মনে করে তাহলে আমাকে রাখবে, না হলে সরিয়ে দিবে। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।’

তিনি মনে করেন, ‘আন্দোলনের মূল কারণ- ব্যক্তিগত উষ্মা। মানে আমি তোমাকে পছন্দ করি না তুমি চলে যাও। যার কারণে তারা বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করছে। আমি আমার জীবনের ৪৭টি বছর এখানে কাটিয়েছি। এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমার একটা আলাদা টান রয়েছে।’

আলোচনার শেষোক্তিতে ভিসি অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আমি বলতে চাই- বুয়েট আমাদের সবার। আমরা যেভাবেই হোক, একে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। হিংসা-বিদ্বেষ আর রেষারেষি রেখে এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

ভিসির সাম্প্রতিক জীবন

বুয়েট ভিসি অধ্যাপক ড. এসএম নজরুল ইসলাম আন্দোলনের কারণে নিজের জীবন অনেকটা গুটিয়ে নিয়েছেন। তাকে আগের মতো খুব একটা জনসম্মুখে দেখা যায় না। তবে এই সুযোগে তিনি আরো বেশি ধর্মজীবনে মনোযোগ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ছাড়াও বেশিরভাগ সময় তসবি হাতে তা জপছেন তিনি। আসর এবং মাগরিবের নামাজ আগে রেজিস্ট্রার ভবনের মসজিদে আদায় করতেন। ফজর, জোহর ও ইশার নামাজ কখনো বাসা অথবা বখশিবাজার জামে মসজিদে আদায় করতেন। এখন আর তাকে এসব জায়গায় খুব একটা দেখা যায় না।

বাজার করার কাজটি ভিসি নজরুল ইসলাম নিজ হাতে করতে পছন্দ করতেন। সাধারণত বুয়েটের পার্শ্ববর্তী পলাশী থেকে তিনি বাজার করতেন। ভিসি হবার পর তাকে আর পলাশীতে বাজার করতে দেখা যায়নি। আনন্দ বাজার থেকে তিনি বাজার করতেন। আন্দোলন শুরুর পর তিনি সেখানেও তেমন একটা যাননি।

এর বাইরে বাইরে বেড়ানোও সংক্ষিপ্ত করে দিয়েছেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। খুব একটা জরুরি প্রয়োজন না হলে বাসা বাইরে যান না। বিভিন্ন পারিবারিক ও পেশাগত অনুষ্ঠানের দাওয়াত বিনয়ের সাথে ফিরিয়ে দেন।

বিবাহিত জীবনে ভিসি নজরুল ইসলাম স্ত্রী, এক মেয়ে এবং দুই ছেলের জনক। বড় মেয়ে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ, এমবিএ করেছেন। বিয়ের পর তার সংসারে এসেছে তিন মেয়ে। স্বামীর সাথে মেয়েদর নিয়ে তিনি কানাডায় বসবাস করছেন।

বড় ছেলে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে সস্ত্রীক কানাডায় অবস্থান করছেন। তিনি শাইখুল হাদীস আল্লামা আযীযুল হক সাহেবের মেয়ের ঘরের নাতনিকে বিয়ে করেছেন।

ছোট ছেলে বুয়েট থেকে ই ই ই শেষ করে আইআইসিটি ডিপার্টমেন্টের একজন লেকচারার। বর্তমানে পিএইচডি করতে কানাডা অবস্থান করছেন তিনি।

রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/এসএন/আরআই/এমআই_ ২০৫৯ ঘ.

Acting Editor: Elias Hossain, Golam Rasul Plaza (2nd Floor), 404 Dilu Road, New Eskaton, Dhaka-1000
Phone: +880-2-8312857, Fax +880-2-8311586, News Room Mobile: +880-1674757802; Email: rtnnimage@gmail.com