• হোম
  •   

    A PHP Error was encountered

    Severity: Notice

    Message: Undefined variable: NewsCategory

    Filename: views/startemplate.php

    Line Number: 107

তরুণ গগৈ

১০ সেপ্টেম্বর,২০১২

আসামে মুসলিমদের সংখ্যা দিন দিন হিন্দুদেরকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তবে তা বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশের কারণে নয় বরং মুসলিমদের অশিক্ষা আর বেশি বেশি সন্তান গ্রহণের ফলে এ অবস্থা তৈরি হচ্ছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ এক টিভি সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সংঘাতের সম্পূর্ণ দায়ভার নিজের ওপরে নিয়ে বলেছেন এর নেপথ্যে নানামূখী কারণ বিদ্যমান।

সিএনএন-আইবিএন চ্যানেলের লাইভ টকশোতে সাংবাদিক করন থাপারকে দেয়া সাক্ষাৎকারটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিচে তুলে দেয়া হলো-

প্রশ্ন: আপনার এলাকা আসাম সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত সংঘাত প্রবণ হয়ে উঠছে? এটা কি ভৌগলিক বা বেশি জনসংখ্যার কারণে হচ্ছে নাকি রাজনৈতিক অস্থিরতা বা অর্থনৈতিক উন্নয়নের অভাবে এসব ঘটনা ঘটছে?

তরুণ গগৈ: আসলেই এটা সত্যি যে, আসামে এ ধরনের দাঙ্গা-সংঘাতের ঘটনা বেশিই ঘটছে। ১৯৬০, ১৯৭২, ১৯৮৩ সালগুলোতে আমরা দেখেছি ঘটনাগুলোর পেছনে আর্থ-সামাজিক কারণ ছিল। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিকও বটে।

প্রশ্ন: অবৈধ বাংলাদেশিদের বিষয়টি আপনি মানছেন না কিন্তু বিজেপিসহ অন্যান্য বিরোধীদলীয় নেতারা বলছেন বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসীরাই এ সহিংসতার পেছনে দায়ী। ১৯৯১ ও ২০০১ এর আদমশুমারি অনুযায়ী কোকরাঝাড়, ধুবড়ি, বেলবাতা ও নোরবরি জেলাসমূহে মুসলিমদের তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। সেখানে অস্বাভাবিক হারে মুসলিমদের সংখ্যা বেড়েছে।

তরুণ গগৈ: আপনি ঠিকই বলেছেন, তবে ২০০১ এর আদমশুমারির দিকে দেখুন, ভারতের জাতীয় হিসাবে আসামের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার খুবই কম, যা প্রায় ৩ শতাংশ। এমনকি ২০১১ আদমশুমারিতেও আসামের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার জাতীয় হিসাবের তুলনায় কম এবং এতে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, এখান অবৈধ অভিবাসীও কমছে।

প্রশ্ন: তবে হিন্দুদের তুলনায় মুসলিমদের সংখ্যা বাড়তির দিকেই রয়েছে। তথ্যগুলো একটু যদি দেখি, কোকরাজারে মুসলিমদের বৃদ্ধি ১৯ শতাংশ আর একি জেলায় হিন্দু জনগোষ্ঠী বেড়েছে ৫ শতাংশ, এমনকি ধুবড়ি অঞ্চলে ২৯ শতাংশ মুসলিম আর ৫ শতাংশ হিন্দু বেড়েছে। এ তথ্য থেকে বোঝা যায়, অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণেই হতে পেরেছে। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয়।

তরুণ গগৈ: আপনি দেখেন এটা মুসলিমদের অশিক্ষার দরুণই হয়েছে। তাদের একেক পরিবারে ৬, ৭ জন ১০ জন করে সদস্য। তারা নিতান্তই শিক্ষা-দীক্ষার বাইরে এবং এটা সেজন্যেই হয়েছে।

প্রশ্ন: মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী আপনি একেবারেই বিরোধপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন। লোকজন এটা মানবে বলে আপনার মনে হয়?

তরুণ গগৈ: আমি একশ' ভাগ এটাই বিশ্বাস করি। কেরালাতেও একই অবস্থা, সেখানে মুসলিমরা সংখ্যায় বেশি। আসামে মুসলিমদের বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ পশ্চিমবাংলা দ্বিতীয়।

প্রশ্ন: আপনি সবক্ষেত্রে একই ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। আমি বলছিলাম যে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী কি কোনো কারণ নয়?

তরুণ গগৈ: অভিবাসীর বিষয়টিও আছে। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখুন- চা বাগানের উপজাতীয়দের মধ্যেও জন্মহার অনেক বেশি।

প্রশ্ন: বর্ডার টেরিটরি কাউন্সিলের প্রধান হাগারেমা মহিরালি বলেছেন, ‘শুধুমাত্র বোড়ো জেলায়ই ২ লাখ অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী রয়েছে’ আপনি এ ব্যাপারে কী মনে করেন?

তরুণ গগৈ: আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, এ সংখ্যা সঠিক নয়। দুই লাখ হতেই পারে না।

প্রশ্ন: অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা কত হতে পারে?

তরুণ গগৈ: আদালতে এ নিয়ে একটি মামলা চলমান রয়েছে, তাতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ সর্বমোট চার লাখের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর বাইরে কিছু হয়তো থাকতে পারে।

প্রশ্ন: তাহলে এর মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

তরুণ গগৈ: এটা বলা মুশকিল, মামলা যেহেতু চলছে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে তাদের সংখ্যা এ সাড়ে চার লাখের মধ্যেই হবে।

প্রশ্ন: তাহলে আপনি বলছেন মহিরালির দেয়া শুধু বোড়ো জেলায়ই দুই লাখের তথ্য ভুল?

তরুণ গগৈ: না না এটা তিনি বলেননি।

প্রশ্ন: গত ৬ আগস্ট ‘দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ এ তিনি পরিষ্কার বলেছেন।

তরুণ গগৈ: তিনি এ বলতে পারেন যে, ক্যাম্পগুলোতে সাড়ে চার লাখ বা তার চেয়ে কিছু বেশি বাংলাদেশি আছে।

প্রশ্ন: তার মানে, আপনি বলতে চাচ্ছেন অভিবাসীরা কোনো সমস্যা নয়?

তরুণ গগৈ: না কোনো সমস্যা নয়।

প্রশ্ন: তাদের গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, বাড়িঘর ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। তাদের ক্যাম্পে অবস্থান নিতে হয়েছে। তারা ভারতীয়, তাদের নিজেদের গ্রামে যেতে পারছে না। কেনো তারা সরাসরি ঘরে ফিরে যেতে পারছে না?

তরুণ গগৈ: যাচ্ছে। তারা যাচ্ছে তো। ইতিমধ্যে দুই লাখ ৪০ হাজার মানুষ তাদের ঘরে ফিরে গেছে।

প্রশ্ন: আমার শেষ প্রশ্নটি হচ্ছে, আপনি তরুণ গগৈ ১১ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী। এর মাঝে অনেকটা সময় আপনি নিজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও যৌথবাহিনীর প্রধান ছিলেন, সে তরফ থেকে সংঘাত নিরসনের ব্যর্থতার কতটুকু দায় আপনি নিবেন? যেখানে আপনার অভিজ্ঞতার ঝুলি অনেক প্রশস্ত। সে অনুযায়ী আপনি পদক্ষেপ নিতে পারেন নাই বা নেয়া হয় নাই।

তরুণ গগৈ: এখনতো আমি যৌথবাহিনীর প্রধান নই।

প্রশ্ন: কিন্তু আপনি এর দায়ভার কতটুকু নিচ্ছেন?

তরুণ গগৈ: একশ’ ভাগ।

প্রশ্ন: ব্যাপারগুলোতে সমস্যা আছে এবং এর দায়ভার আপনার ওপরই বর্তায়।

তরুণ গগৈ: অবশ্যই মূখ্যমন্ত্রী হিসেবে শতভাগ দায়ভার আমারই।

করন থাপার: ধন্যবাদ মূখ্যমন্ত্রী মিস্টার তরুণ গগৈ। আশা করি সমালোচকরা আপনার বিরুদ্ধে যাবে না।

Acting Editor: Elias Hossain, Golam Rasul Plaza (2nd Floor), 404 Dilu Road, New Eskaton, Dhaka-1000
Phone: +880-2-8312857, Fax +880-2-8311586, News Room Mobile: +880-1674757802; Email: rtnnimage@gmail.com