• হোম
  •   

    A PHP Error was encountered

    Severity: Notice

    Message: Undefined variable: NewsCategory

    Filename: views/startemplate.php

    Line Number: 107

গোলাম মুস্তাফা

২৯ সেপ্টেম্বর,২০১২

জনশক্তি রপ্তানিতে সম্ভাবনা ও সংকটের অবস্থান সমান্তারালে। অবশ্য বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে সিংহভাগ অবদান এ খাতের। বিভিন্ন সময়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এ খাতে কম সুপারিশ আসেনি বা বাস্তবায়ন হবার পরও এখনো অনেকটাই পথ বাকি রয়ে গেছে।

হালে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে এমন অভিযোগ উঠছে। আবার রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে প্রবাসে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে এমন সমস্যাও রয়েছে। সময়ের সাথে সাথে প্রবাসে জনশক্তির রকমও পরিবর্তন ঘটছে। সেই চাহিদা পূরণ করতে আমরা কতটুকু পারছি। এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি খাত কি একসাথে কাজ করতে পারছে।

এসব বিষয় ছাড়াও জনশক্তি রপ্তানির বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম-এর সাথে সাক্ষাতকারে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক সভাপতি গোলাম মুস্তাফা বলেছেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নিত্য নতুন পরিকল্পনা নিয়ে দ্রুত আগাতে না পারলে আগের মত খুব সহজে জনশক্তির বাজারে টিকে থাকা এখন আর সম্ভব নয়।

প্রশ্ন: সম্প্রতি অভিযোগ উঠছে আমাদের ছেলেরা প্রবাস জীবনে বেশ অসহিঞ্চু হয়ে পড়ছে, বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এটা কেনো হচ্ছে?

গোলাম মুস্তাফা : দশ বিশ বছর আগে আমাদের ছেলেরা কিন্তু এতটা অপরাধ প্রবণ ছিল না।তারা কিন্তু প্রবাসে বেশ আইন মেনে চলত, ওসব দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা ছিল। এখন তাদের মধ্যে কিন্তু অতটা সেই বোধ নেই।কিন্তু এটা ঢালাও ভাবে বলা বা তাদের দোষ দেয়াটা কিন্তু খুব অন্যায় হবে। আবার আগে যে সব দেশ আমাদের জনশক্তি নিতে চাইত তাদের বেশ আগ্রহ ছিল, পছন্দ করতে আমাদের লোকবলকে। কারণ তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা ও তা মেনে চলার পাশাপাশি প্রচণ্ড পরিশ্রম করত।

কাজ ছাড়া ওরা কিছু বুঝত না। কিন্তু সাম্প্রতিককালে আমাদের পাঠানো কর্মীদের একটা ছোট অংশ, সবাই না, এরা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়ছে।এটা আমাদের ভাবমূর্তি বা ইমেজ সংকট তৈরি করেছে। তবে অপরাধ প্রবণ জাতি বা দেশ হিসেবে প্রধান ছিল পাকিস্তানীরা। ওরা শুধু অপরাধ করত না এমনকি মাদক পাচারও করত। খুন খারাবি থেকে আরম্ভ করে ওরা খুব বেপরোয়া ছিল। তারপর ভারতীয়রা এধরণের অপরাধ করত। কিন্তু পাকিস্তানীদের সাথে ভারতীয়দের পার্থক্য ছিল, এরা খুবই ঠাণ্ডা মেজাজের। খুবই চালাক চতুর। তাদের কর্মকাণ্ড সাধারণভাবে বোঝা যেত না।

এসব ব্যাপারে পাকিস্তানী ও ভারতীয়দের তুলনায় বাংলাদেশিরা প্রবাসে খুবই ‘ইনোসেন্ট’ ছিল। তাদের কোনো ক্রেজ ছিল না, বরং তারা সংযত ছিল। এজন্য উপসাগরীয় এলাকা বা মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি কর্মীদের কদর ছিল আলাদা। কিন্তু বছর দশক ধরে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। এধরনের পরিবর্তন আমাদের দেশেও ছেলেমেয়েদের মধ্যে হয়েছে। ছোট খাট দুর্ঘটনা হলে রাস্তায় গাড়ি থেকে শুরু করে এরা গার্মেন্টস কারখানা ভাংছে। অথচ কারখানার শ্রমিক কিন্তু কোনো দোষ করেনি।

প্রশ্ন: তাহলে এই যে সামাজিক সংস্কৃতি বা আচরণগত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তরুণদের মধ্যে একটা ক্রেজভাব, সহিষ্ণুতার অভাব এটা কেন হচ্ছে?

গোলাম মুস্তাফা : এ পরিবর্তন কিন্তু অন্যান্য দেশেও হচ্ছে, আমাদের দেশে হয়ত একটু বেশি হচ্ছে, এর কারণ একটা হাহাকার কাজ করছে চারপাশে। যেমন ধরেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম একটা রঙ্গীন টেলিভিশনের জন্যে বিশাল স্বপ্ন দেখতাম। বা একটা ছোট রেডিওর স্বপ্ন দেখতাম।কালার বা ব্লাক এন্ড হোয়াইট এটা কোনো ব্যাপার ছিল না। বহু বছর প্রচেষ্টার পর একটা কালার টেলিভিশন কিনে আনন্দে আত্মহারা হয়েছি। বহু বছরের চেষ্টার পর হয়ত একটা মোবাইল টেলিফোন কিনেছি। কত খুশি হয়েছে, হয়ত মোবাইল ফোন সেটটা দেড় হাত লম্বা।

কিন্তু এখনকার যে নতুন প্রজম্ম সেটা শহরের হোক আর গ্রামের হোক, শিক্ষিত হোক আর অশিক্ষিত হোক, দেশে হোক আর বিদেশে হোক তাদের কিন্তু চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। ওরা এখন কম সময়ে কম আয়ে বেশি পেতে চায়। এটা একটা বড় সমস্যা।

আবার রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেশের মানুষকে সবসময় প্রভাবিত করে। আমাদের দেশে ৭৫’এর ক্যুর পর এক ধরনের অবক্ষয় হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পর কিছুটা হয়েছে তা স্বাভাবিক। কিন্তু ৭৫এর পর একটা বড় অবক্ষয় হয়েছে। এরপর সামরিক ক্যুগুলো হয়েছে, সেগুলো আমাদের মূল্যবোধটাকে নষ্ট করেছে। তারপর রাজনৈতিক সংস্কৃতি সংঘাতময় হয়ে ওঠায় এসব ব্যাপারগুলো নতুন প্রজম্ম জম্মের পর থেকে দেখছে। সুতরাং তাদের ভেতরে একটা অসহিষ্ণু মনোভাব জম্ম নিয়েছে।

আরেকটা জিনিষ হচ্ছে, মার্শাল ল’ বা রাজনৈতিক ঘুষ, দুর্নীতির কারণে অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক লোক বিত্ত বৈভবের মালিক হয়ে গেছে। এগুলো তাদের সামনে এক একটা উদাহরণ। সুতরাং তারাও তাদের মত কম সময়ে কম পরিশ্রমে বেশি সম্পদের মালিক হতে চায়।

তারপর যেটুকু আমাদের ছেলেরা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত এটা আমাদের জনশক্তি রপ্তানির শতকরা ৫ ভাগও নয়। পচানব্বই ভাগ ছেলে কিন্তু নম্র, ভদ্র এবং খুই ধৈর্যশীল। কিন্তু এই ৫ ভাগের জন্যেই একশ ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আরেকটা হচ্ছে, যেটুকু অপরাধ তারা করছে, তারচেয়ে তা বড় আকারে ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে টেলিভিশনে বা পত্রিকায় কারণ মধ্যপ্রাচ্যে, উপসাগরীয় এলাকা বা মালয়েশিয়ায় আমাদের কোনো মিডিয়া বা প্রেসের কোনো অস্তিত্ব নেই, কিন্তু ওসব দেশের প্রেস এবং মিডিয়া বেসিক্যালি ভারতীয়দের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেখানে সাংবাদিক আছে, সম্পাদক আছে, ফটোগ্রাফার আছে, কনসালটেন্ট আছে, প্রতিবেদক আছে। সুতরাং ওরা আমাদের প্রতি একটু ‘জেলাস’। কারণ তারা জনশক্তি রপ্তানিতে আমাদের ভীষণ প্রতিযোগি ও বিশাল দেশ।

গত ২৫ বছরের একটা পরিসংখ্যান বিবেচনায় আনা হলে পাকিস্তান বা ভারত যে হারে জনশক্তি রপ্তানি করেছে তার তুলনায় বাংলাদেশ অনেক বেশি রপ্তানি করেছে। যত বেশি রপ্তানি করছি ততই তাদের শ্রমবাজার আমাদের দখলে আসছে। সুতরাং তারা আমাদের ব্যাপারে একটু ‘হোস্টাইল’ যার জন্যে আমাদের ছোট অপরাধকে বড় আকারে প্রচার করছে এবং নিজেদেরগুলো তারা লুকাচ্ছে। তারপর প্রবাসে যাওয়ার খরচ অনেক বেড়েছে।

আমার একটা ধারণা দশ বারো বছর আগে প্রবাসে যেতে সরকার চুরাশি হাজার টাকা বেঁধে দিয়েছিল। এটা ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও নেপালে ব্যাপক আলোচিত যে বাংলাদেশের চেয়ে এত বেশি টাকা তাদের জনশক্তি রফতানিতে লাগে কেনো। আবার আমরা ওসব দেশে জনশক্তি রপ্তানিতে কম খরচের কথা বলে থাকি। আসলে কোনো দেশই এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

আবার ৫০ থেকে আড়াই বা তিন লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে গিয়েছে, অর্থাৎ খরচের বিষয়টি মিশ্র। তারপরেও গড় হিসেবে ওসব দেশের তুলনায় আমাদের জনশক্তি রপ্তানি খরচ বেশি। এধরনের বেশি খরচ আমাদের তরুণদের মধ্যে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। হয়ত সে তার একমাত্র জমিটি বিক্রি বা বন্ধক রেখে প্রবাসে যাচ্ছে। কিংবা সুদে টাকা ধার বা হালের বলদ বিক্রি করে গেছে। প্রবাসে যাওয়ার পর তাদের একটা লক্ষ্য থাকে যত তাড়াতাড়ি সুদের টাকা পরিশোধ করা, হালের বলদ কেনা, বন্ধকী দেয়া সম্পত্তিটা ছাড়াতে হবে যাতে পরের মৌসুমের ফসলটা ঘরে আসে। এজন্যে তাদের মধ্যে একটা অস্থিরতা, চঞ্চলতা, হতাশা বা অপরাধ প্রবণতা বিরাজ করে।

আবার আপনি যদি প্রবাসে যে দেশেই যান সেখানে কিন্তু ভারতের জনতা পার্টি, কংগ্রেস বা জনতা দলের কোনো শাখা আছে এমনটি আপনি দেখবেন না। কিন্তু আপনি যদি সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ গালফের দেশ বা যে কোনো স্থানে বা যে কোনো দেশে যান সেখানেই আপনি দেখবেন বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, এমনকি জামায়াতে ইসলামীর পর্যন্ত ব্রাঞ্চ আছে। বাংলাদেশের মতই তাদের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত বিরাজ করছে।

আপনি দেখেন মিডল ইস্ট, গালফ মূলত রাজা, সম্রাট ইত্যাদি, ওখানে কিন্তু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ওরা এ্যালাউ করে না। নিজেদের নাগরিককে। অথচ প্রবাসীরা কাজ করতে যেয়ে সেখানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করবে, এটা কিন্তু ঐ সব দেশের সরকারগুলো পছন্দ করে না। এমনকি মালয়েশিয়া যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আছে, রাজনৈতিক দলও আছে কিন্তু সেখানকার কালচার বড়ই নিয়ন্ত্রিত। তাদেরও একটি নির্দিষ্ট পরিমণ্ডলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। খুবই লিমিটেড।

যেখানে তাদেরটাই কিছু কনট্রোলড ডেমোক্রেসি সেখানে বাংলাদেশের যেসব রাজনৈতিক দলের শাখা মালয়েশিয়ায় রয়েছে সেটা কিন্তু তারা সহজভাবে নেয়না। এ যাবতীয় কারণে তারা ধরেই নিয়েছে বাংলাদেশিরা সীমালঙ্ঘনকারী।

প্রশ্ন: সরকার বা বেসরকারি উদ্যোগ হিসেবে বিদেশে যাওয়ার আগে মনস্তাত্ত্বিক ভাবে তরুণদের প্রশিক্ষণ দেয়ার কোন ব্যবস্থা আছে কিনা? আর জনশক্তি রপ্তানিতে আমাদের লোকবলের গুণগত মান বাড়ছে না কেন?

গোলাম মুস্তাফা : না কুড়ি বছর আগে আমাদের ৯৫ থেকে ৯৭ ভাগ অদক্ষ শ্রমিক বিদেশে যেত।নির্মাণ শ্রমিক বা ক্লিনার। এগুলোই বেশি। তারপর নিতান্তই ড্রাইভার। আর আমাদের কাছ থেকে লেবার বা কার্পেন্টার কিংবা প্লাম্বার এগুলো নিত ভারত ও শ্রীলঙ্কা। এখন কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে।

ধরেন ২০/২৫ বছর আগে সরকারের কয়েকটা ট্রেনিং সেন্টার ছিল। চার থেকে পাঁচটা। এখন সরকারি আছে ৩৬টি। আর বেসরকারি ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে শতাধিক। কিন্তু এগুলোর মধ্যে সরকারিগুলো অদক্ষ কিন্তু নিয়ন্ত্রিত। আর বেসরকারিগুলো রেসপন্স করে। যেমন তারা জানে কোন কোন দেশে কি পরিমাণ লোক দরকার। তারা সেভাবে ট্রেনিং মডিউলটা তৈরি করে।

আরব আমীরাতে ২০০৬ থেকে চার বছরে ১২ থেকে ১৩ লাখ লোক গিয়েছে এদের সত্তর থেকে আশিভাগ প্রশিক্ষিত। কার্পেন্টার থেকে শুরু করে পাইপ ফিটার, ওয়েল্ডার, প্লাম্বার ইত্যাদি। কিছু লেবারও গিয়েছে। তবে আগের তুলনায় সরকারি ও বেসরকারিখাত বিদেশে দক্ষ লোক পাঠাতে সজাগ। এব্যাপারে তারা রেসপন্স করেছে কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। আরো বেশি করা দরকার।

গত ১৫/১৬ বছর ধরে সরকার আছে যায়, প্রতিটা সরকারকে বলেছি, কিন্তু বিশ্বাস করে, স্বীকার করে কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেয় না। যেমন বাংলাদেশে ৩ শ’ নদী আছে। বঙ্গোপসাগর আমাদের সখা। এই যে ধরেন জ্বলোচ্ছাস, তুফান, হ্যারিকেন তারপর ধরেন সুনামি এগুলো আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। বিশাল উপকূলের লাখ লাখ মানুষ সাগরের ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ করে কিন্তু তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। তাহলে গত চল্লিশ পঞ্চাশ বছর ধরে মাত্র একটা মেরিন একাডেমি চট্টগ্রামে।

পাকিস্তান আমলে ওরা গুরুত্ব দেয়নি। তার আগে বলি আজ যদি বাংলাদেশ না হয়ে পাকিস্তান হত, বিদেশে আশি লাখ নয়, আট বা দশ হাজার লোক বিদেশে যেত। আর আশি লাখ মানুষ যে বছরে ১২ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স দেয় এটা কিন্তু স্বাধীনতার সরাসরি সুফল। যারা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বঙ্গবন্ধু, শাহাদাৎ বরণকারী মুক্তিযোদ্ধা, জীবিত বা আহত যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তাদের স্মরণ করছি। দেশ স্বাধীন হবার সুদীর্ঘ দিন পর দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ মেরিন একাডেমি হয়েছে। অথচ এসব মেরিন একাডেমির ক্যাপাসিটি খুবই সীমিত। এটা আরো ৫/৭ গুণ হতে পারে। আরো ১৫ থেকে ২০ টা মেরিন একাডেমি হতে পারে। তাহলে ক্যাপ্টেন, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ওগুলো রপ্তানি করতে পারি ঠিক তেমনি নাবিক রপ্তানি করতে পারি।

এরা দক্ষ জনশক্তি। ক্যাটারিংএর কথা বাদই দিলাম। ফিলিপাইন যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে তার সিংহভাগ আসে এই নাবিকদের কাছ থেকে। তারপর আমাদের দেশে যে নার্স প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এটা বেসিক্যালি খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু, এতিম, গরিব ও অসহায় এরাই নার্সিং পেশায় আসে। অথচ এটা বিদেশে অনেক সম্মানের। কিন্তু এসএসসি ফেল বা থার্ড ডিভিশনে পাশ করা।

কিন্তু গ্র্যাজুয়েশন ইংলিশ মিডিয়ামে নার্সিং ট্রেনিং খুব একটা নেই বললেই চলে। এ্যাপোলো কিংবা ইউনাইটেড বা স্কয়ার হাসপাতাল কিন্তু এদের কোনো ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নেই। সরকারের উচিত এসব হাসপাতালগুলোতে গ্রাজুয়েট ইংলিশ মিডিয়ামে নার্সিং কোর্স চালু করতে বাধ্য করা। তাহলে ইউরোপ আমেরিকায় দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে ভ্যালু এ্যাড হত। হাজার হাজার ছেলে মেয়ে সার্ভিস সেক্টর থেকে বের হয়ে আসত।

আর ক্যাটারিং এর কথা কি বলব। বাঙ্গালীর এমনি আতিথেয়তা করার অভ্যাস পুরোনো। তবে সরকারের উদ্যোগ ছাড়া হবে না।

প্রশ্ন: ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা বা নেপালের সাথে জনশক্তি রপ্তানিতে আমাদের তুলনাগত পার্থক্য কোথায়?

গোলাম মুস্তাফা : তুলনা হচ্ছে, আমাদের মালয়েশিয়া হাইকমিশন ননকমিটেড ছিল। ধরা যাক সেখানে একটি কোম্পানিতে যে পরিমাণ লোক দরকার তারচেয়ে বেশি পরিমাণ লোক চলে গেছে। ষাট জনের জায়গায় আশি জন চলে গেছে। এইযে ২০ বেশি গেল তারা মালয়েশিয়ার রাস্তায় হৈচৈ করেছে। এখন সরকার বলছে বেসরকারি খাতে আর ভিসা এ্যালাউ করা হবে না। সরকারের সাথে মালয়েশিয়ার সরকারের উদ্যোগে জনশক্তি রপ্তানি হবে। এটা বস্তাপচা পুরোনো দিনের মেন্টালিটি।

এন্টার ওয়ার্ল্ড, যেখানে সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব ধ্বসে গেছে, কমিউনিজম শেষ, চায়নার রমরমা অর্থনৈতিক অবস্থা রাশিয়ায় যে অর্থনৈতিক উন্নতি এটা প্রাইভেট সেক্টরের কারণে। যেখানে ওসব দেশ পাবলিক সেক্টরকে পরিত্যক্ত করেছে সেখানে আমাদের সরকার পাবলিক সেক্টরকে জনশক্তি রপ্তানিতে কাজে লাগাতে চাচ্ছে জি টু জি আন্ডারে। ২০০২ সালে মালয়েশিয়ার সাথে একই অপরাধের কারণে জি টু জি ভিত্তিতে জনশক্তি রপ্তানির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবার পর আবার প্রাইভেট সেক্টরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

যেমন ধরেন একটা কোম্পানির ষাট জন লোক দরকার। এখন আশি জন আবেদন করলে অনুমোদনটা কে দেয়? বাংলাদেশ সরকারও দেয় না, রিক্রুটিং এজেন্টও দেয় না, বাংলাদেশ মিশনও দেয় না, এটা দেয় মালয়েশিয়া সরকার। তো মালয়েশিয়া সরকার ষাটের জায়গায় আশি জনের অনুমোদনটা কেন দিল। কেন তারা যাচাই বাছাই করল না। এই কথাটা কেউ বলেনা।

আর আশিজনের ডিমান্ড লেটার যখন আমাদের এ্যাম্বেসিতে এল তখন তা যাচাই বাছাই না করে সত্য বলে সত্যায়িত করে দিল। তারা যদি এটা ত্রুটিমুক্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুরোটাই বাতিল করে দিতে তাহলে এই সমস্যাটা আর হয় না। তারপর রিক্রুটিং অনুমতি দিয়েছে। অপরাধ খালি রিক্রুটিং এজেন্টদের হয়, আর কারো হয়নি। আমাদের কেন পানিশমেন্ট দেয়া হবে।

আমি মনে করি সরকারের উচিত এ জাতীয় বিষয়গুলো, যেমন আমাদের মিশনগুলোকে শক্তিশালী করা, স্টাফ ও অফিসার বাড়ানো, লজিস্টিক বাড়ানো, তাদের নেগলেক্টের জন্যে শাস্তির ব্যবস্থা করা, অঙ্কুরেই সমস্যা বিনষ্ট করে দেয়া, যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেয়া, যাতে ভুয়া কোম্পানিতে লোক না যায়, প্রয়োজনের বেশি না যায়, তাহলেতো আর সমস্যা হয় না। সুতরাং উদোর চন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপালে হবে না।

তাই জি টু জি পদ্ধতি ব্যর্থ হতে বাধ্য। যেখানে প্রয়োজন হবে সাত লাখ, সেখানে বিএটি বা বোয়েসল পাঠাবে সাত হাজার। বাকি লোকগুলো অন্যান্য দেশ থেকে চলে আসবে। অথচ সরকার যদি সোর্স কান্ট্রি হিসেবে দর কষাকষি করতে পারত সাফল্যের সাথে তাহলে এসব সমস্যা হত না। হোয়াই গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট।

যেখানে বাংলাদেশ জনশক্তি রপ্তানি করবে তাদেরকে কি মালয়েশিয়ান গভর্নমেন্ট চাকরি দেবে। দেবে প্রাইভেট সেক্টর। তাকে বাধ্য করবেন কিভাবে। কখনোই প্রাইভেট সেক্টর লার্জ স্কেলে লোক নেবে না। জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমি মনে করি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হতে পারে। সরকার সেখানে একটা পক্ষ হতে পারে। যে মালয়েশিয়ান সরকার যে লোক নেবে সেগুলো বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে যেতে পারে।

আর প্রাইভেট সেক্টর নিলে তা যাবে প্রাইভেট সেক্টর নেবে। তবে সরকার যেন নজর রাখে বেশি টাকা যেন কেউ না নেয়। দোষ পেলে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা বা লাইসেন্স বাতিল করা হবে। কিন্তু কারো কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু জি টু জি পদ্ধতি হবে আত্মঘাতী।

রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/বিশেষ প্রতিনিধি/আরআই_ ১৭৫২ ঘ.

Acting Editor: Elias Hossain, Golam Rasul Plaza (2nd Floor), 404 Dilu Road, New Eskaton, Dhaka-1000
Phone: +880-2-8312857, Fax +880-2-8311586, News Room Mobile: +880-1674757802; Email: rtnnimage@gmail.com