• হোম
  •   

    A PHP Error was encountered

    Severity: Notice

    Message: Undefined variable: NewsCategory

    Filename: views/startemplate.php

    Line Number: 107

নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ্

০১ অক্টোবর,২০১২

গাজীপুর উপনির্বাচন হয়ে গেল। প্রধান বিরোধীদল বিএনপি অংশ না নেয়ায় এ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বল্প সময়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তাদের জন্যে আর কিইবা করবেন সে ভেবে অনেক ভোটার কেন্দ্রেই যাননি ভোট দিতে। তারপর প্রবল বর্ষণে অনেকে যেতে পারেন নি।

নির্বাচন কমিশন এ উপনির্বাচন আয়োজন করার পর আগামী নির্বাচন নিয়ে কি ভাবছে! গাজীপুর উপনির্বাচন এসিড টেস্ট হোক আর জলবৎ তরলং হোক এবার রোড ম্যাপ কি হতে যাচ্ছে।

অনেকে ভাবছেন ২০১৩ সাল গোলযোগপূর্ণ বছর হয়ে উঠবে। আবার অপশনও অনেক। যে যত কথাই বলুক বাংলাদেশের মানুষ সংকট উত্তরণ করতে জানে। সেখানেই ভরসা।

রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম-এর সাথে এমন আলাপচারিতা করছিলেন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদ জানিপপ’এর চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ্। বাকিটা সাক্ষাতকারে।

প্রশ্ন: গাজীপুর- ৪ উপনির্বাচন নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?

নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ্: সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করতে গেলে আমি বলব এ উপনির্বাচনটি ছিল নিরুত্তাপ, স্বল্প ভোটার উপস্থিতি সম্পন্ন শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচন। এ উপনির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সেটা হচ্ছে প্রথমবারের মত আমার জানা মতে রিটার্নিং অফিসার প্রকাশ্যে অকপটে স্বীকার করেছেন যে, উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম এবং আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা তিনি বলেছেন, সেটা হল, ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে কেন্দ্রে নিয়ে আসার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের না। একজন ভোটারের সার্বভৌম অধিকার তিনি ভোট দেবেন কি দেবেন না, কেন্দ্রে আসবেন কি আসবেন না। এ হল তার নিজস্ব ব্যাপার।

আজ পর্যন্ত কোনো রিটার্নিং অফিসারকে এমন কথা বলতে শুনিনি। মিহির সরোয়ার মোর্শেদ যিনি এ দায়িত্ব পালন করেছেন, তাকে ‘হ্যাটস অফ’। এই উপনির্বাচন আমাদের চিন্তার খোরাক যুগিয়েছে, সেটা হচ্ছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন আন্তর্জাতিক যে মাপকাঠি আছে, সে বিবেচনায় ফ্রড। অর্থাৎ আগের যে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল একই আসনে, তার সাথে এ নির্বাচনের গুণগত পার্থক্য তৈরি হয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনতা যুক্ত হওয়ায়। আর এই উপনির্বাচনে আমরা ভোটারদের নিস্তেজ ও নিস্পৃহ অবস্থান নিতে দেখেছি, তার কারণ হল একই পরিবারের রক্তের সম্পর্কিত ঘনিষ্ট দুই আত্মীয়ের মূল প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হওয়ায়।

এই পরিবারের বিশাল অবদান আছে বাংলাদেশের ইতিহাস তৈরিতে, বাংলাদেশের প্রয়াত প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এই আসন থেকে এই এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়ে অবশেষে হত্যার শিকার হয়ে গিয়েছিলেন। এরপর তার ভাই আফসার সাহেবকে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় মরহুম তাজউদ্দীন আহমদের পুত্র সোহেল তাজ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মত একটি স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় একজন জুনিয়র মন্ত্রক থাকা অবস্থায় অভিমান করে শুধু আসন ছেড়েই চলে যাননি, দেশ ছেড়েও চলে গিয়েছিলেন। এই যে অবস্থাটি বার বার জনগণ আপন করছে, এই পরিবারের সদস্যদেরকে, কিন্তু কোনো এক গ্রহ নক্ষত্রের বিপাকে পড়ে অবস্থাটা দাঁড়ায় এমন বার বার তারা হয় ‘হিট আউট’ হচ্ছেন অথবা দূরে সরে যাচ্ছেন, সেই কারণে যে আশা তাদের তা হচ্ছে এদের দ্বারা এলাকার উন্নয়ন সম্পন্ন হতে হবে এবং ধরা ছোঁয়া যায় জনগণের এমন সেবা তারা করবেন। কিন্তু সেই প্রত্যাশা ধারাবাহিকভাবে তারা পাবেন কিনা সেটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। রিমির যাত্রা শুরু হল। আর স্বল্প সময়ে কিইবা করার আছে।

এর পাশাপাশি মূল দুটো দল আওয়ামী লীগ আর কমিউনিস্ট পার্টি তারা যে দুটো প্রার্থীকে মুখোমুখি দাঁড় করালেন সেখানে তাদের মনোনয়ন করার প্রক্রিয়া নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন করার সুযোগ থেকে যায়। এবং এর যে ব্যত্যয়টা ঘটেছে, তার সূত্র ধরে নির্বাচন কমিশন যদি চায় তার হাতে যে তাত্ত্বিক ক্ষমতা আছে তা ব্যবহার করে এ দুটি দলের রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করে দিতে পারে। এরকম কর্মকান্ড কিন্তু জম্ম দিয়েছে এ উপনির্বাচন।
ফলে নানান কারণে বাংলাদেশে ভবিষ্যতে নির্বাচনের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে এ উপনির্বাচন তাৎপর্যপূর্ণ পটভূমি হিসেবে কাজ করবে।

প্রশ্ন: এ উপনির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে আনতে না পারায় এ নির্বাচন কতটুক গ্রহণযোগ্য হবে?

নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ্: নির্বাচনে আন্তর্জাতিক যে স্ট্যান্ডার্ড সে অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন একটি নির্বাচন ফ্লপ ও ফ্রড। অর্থাৎ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতে হয়, এটা শুধু বাংলাদেশের জন্যে নয়, সকল দেশের জন্যে প্রযোজ্য। ক্লারিকেল বা করণিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে আপনি বলতে পারেন, নির্বাচনের যে আনুষ্ঠানিকতা নির্বাচন কমিশন পালন করে, তাহলে সে তার দায় এড়ায়। কিন্তু সুষ্ঠুতার বিচারে, গ্রহণযোগ্যতার বিচারে, মানগতভাবে উৎরে যাওয়ার বিচারে নির্বাচনটি ত্রুটিপূর্ণ থেকে যায়। এটি হচ্ছে আন্তর্জাতিক স্টান্ডার্ড। এবং এই কথাটি ব্যক্তি কলিমুল্লাহর নয়, এটি যে কোনো আন্তর্জাতিক নির্বাচনী পর্যবেক্ষককে জিজ্ঞেস করলে এরকম উত্তরটি মোটাদাগে পাবেন বলে আমার বিশ্বাস।

প্রশ্ন: এ উপনির্বাচনে ভোটাররা কেন্দ্র বিমুখ ছিল, এটা কি শুধু নির্বাচন কমিশনের দায় দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার জন্যে নাকি রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর হতাশা থেকে?

নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ্: এধরনের ধারণা উড়িয়ে দেয়া যায় না। একটি উপনির্বাচনে কোনো একটি এলাকার নমুনা আমরা দেখলাম। সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের চিত্র সময়েই বোঝা যাবে। তবে সাধারণভাবে একধরনের হতাশাতো কাজ করছেই।  জনগণ, নাগরিক ও ভোটারদের মনে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

প্রশ্ন: কেউ কেউ বলছে আগামী নির্বাচনের জন্যে গাজীপুরের এ উপনির্বাচন একটি এসিড টেস্ট, আপনি কি মনে করেন?

নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ্: এটি আগামী নির্বাচনের যে পটভূমি বা ক্ষেত্র সেদিক থেকে বিবেচনা করলে গুরুত্ব সমধিক। এ উপনির্বাচনটি ছিল বর্তমান নির্বাচন কমিশনের জন্যে প্রথম পাইলটিং। আর তাতে কতটা ডিভিডেন্ড তারা পেয়েছেন, সে নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। আর শুধু মাত্র প্রাকৃতিক কারণে বৃষ্টি হঠাৎ করে হয়েছে বলে ভোটার কমে গেছে এইভাবে অতি সহজ সরলীকরণ করাটা কতটা যুক্তিযুক্ত সে নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।

প্রশ্ন: সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে নির্বাচিত হতে হবে, বিরোধীদল থেকে বলা হচ্ছে নির্দলীয় হতে হবে, এর ফয়সালাটা কোথায়?

নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ্: অনেকগুলো অপশন আছে টেবিলের উপরে। একটা হচ্ছে, নাইনটি সিক্স অপশন, অর্থাৎ একাধিক নির্বাচন, ৯৬’ সালে যেটি আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। আরেকটি হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন। আরেকটি হচ্ছে নির্বাচন পিছিয়ে দেয়া। অর্থাৎ যথাসময়ে অনুষ্ঠিত না হওয়া। এ তিনটি অপশন। ঘুরপাক খাবে। আর যদি গুড সেন্স কাজ করে তাহলে শেষ মূহুর্তে সবাই মিলে ঐ সেই মৎসন্নয়ের অবসান যেভাবে ঘটেছিল, সেই প্রাচীনকালে, অর্থাৎ সবাই মিলে গোপালকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত করে রাজার আসনে বসিয়ে দিয়েছিল, তেমন একটি কাণ্ড হয়ে যেতে পারে।

প্রশ্ন: এ উপনির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশন কি ধরনের হোম ওয়ার্ক করতে পারে?

নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ্: নির্বাচন কমিশনের আসলে হাত পা বাঁধা। কমিশনের কিছু করার নেই। আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাদ দিয়ে নির্বাচিত লোকদের অধীনে সবকিছু করতে চাচ্ছি আবার মজার ব্যাপার হচ্ছে, কিছু অনির্বাচিত লোকজনেকে নির্বাচন কমিশনে বসিয়ে, তাদের হাতে সমস্ত ক্ষমতা দিয়ে দেয়ার চিন্তা ভাবনা করছি। যেটা খুব স্ববিরোধী এবং আমার কাছে মনে হয় ফ্রাংকেনস্টেইন হয়ে আবির্ভূত হতে পারে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের লোকজন যারা নির্বাচনের আয়োজন করবেন, তাদের নির্দলীয় হতে হবে, নিরপেক্ষ হতে হবে বলছেন। এক পক্ষ বলছে নির্দলীয় হতে হবে আরেক পক্ষ বলছে নির্বাচিত হতে হবে, আবার যে পক্ষ বলছেন, নির্বাচিত হতে হবে, তারাই আবার বলতে চাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করলেই চলবে, পারলে দেশ ও শাসন ক্ষমতা বা সকল মন্ত্রণালয়ের ভার কমিশনের হাতে ছেড়ে দেব। যারা তাদের তত্ত্বাবধানে চলবে। এই যে ব্যাপারটি, একধরনের ছেঁদো কথাতো, তর্কের খাতিরে বলতে হয়, এরাতো সবাই অনির্বাচিত লোক। এই পাঁচজন লোককে নিয়ে যে নির্বাচন কমিশন এরা কি তাদের জীবনে কোথাও কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন? নির্বাচিত হয়ে আসছেন? এই প্রশ্নটাও কিন্তু চলে আসে। এবং শেষে না আমরা হাতে ধরে একটা ফ্রাংকেনস্টেইন তৈরি না করি।

প্রশ্ন: ২০১৩ সাল কি তবে সবচেয়ে গোলযোগের বছর হয়ে উঠছে সবার জন্যে?

নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ্: আমি আশাবাদী মানুষ। বাংলাদেশ সবসময় ক্রাইসিস উত্তরণ করতে সক্ষম হয়েছে। মনে পড়ে ৭৫’সালের নভেম্বর মাসে কয়েকদিন সরকারই ছিল না দেশে, তখনও কিন্তু দেশবাসী নিরাপদে ঘুমিয়েছে। জীবন যাপন করে গেছে। সুতরাং অভিজ্ঞতাগুলোতো আমাদের আছে।

রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/বিশেষ প্রতিনিধি/আরআই_ ২১০৭ ঘ.

Acting Editor: Elias Hossain, Golam Rasul Plaza (2nd Floor), 404 Dilu Road, New Eskaton, Dhaka-1000
Phone: +880-2-8312857, Fax +880-2-8311586, News Room Mobile: +880-1674757802; Email: rtnnimage@gmail.com