• হোম
  •   

    A PHP Error was encountered

    Severity: Notice

    Message: Undefined variable: NewsCategory

    Filename: views/startemplate.php

    Line Number: 107

রিয়াজউদ্দিন আহমেদ

২১ অক্টোবর,২০১২

দিন কয়েক হল প্রধানমন্ত্রীর খবর বেসরকারি টেলিভিশন ও সংবাদপত্রগুলো কাভার করতে পারছেন। বিষয়টি সম্পর্কে সম্পাদকদের কাছে তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, এটা সরকারের কোন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হয়নি। তবে মিডিয়া জগত থেকে মনে করা হচ্ছে এরফলে ‘ফ্রি ফ্লো অব ইনফরমেশন’ অর্থাৎ অবাধ তথ্য প্রবাহ বাধা পাচ্ছে।

যারা প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সংগ্রহে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতেন তাদের বলা হয়েছে বিটিভি থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে পরিবেশন করতে। ফলে সময়মত বা তাৎক্ষণিক সংবাদ সংগ্রহের যে সুযোগ ছিল তা আর সম্ভব হচ্ছে না।

বিষয়টিকে এক ধরনের সেন্সরশীপ হিসেবেই দেখছেন ইংরেজি পত্রিকা নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ। রিয়েল টাইমকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, এতে মিডিয়ার সাথে সরকারের আরো দুরত্ব সৃষ্টি হবে। এমনকি মিডিয়ার ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপও সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সরাসরি সংগ্রহ করা সম্ভব না হলে অন্য সোর্স থেকে তা কতটুকু বিশ্বাসযোগ্যভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে?

রিয়াজউদ্দিন আহমেদ: সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, বিটিভি থেকে সংগ্রহ করতে। কেন? অন্য টেলিভিশন যে খবর দেয় তা প্রটোকল অনুযায়ী দিচ্ছে না ইলেক্ট্রোনিক মিডিয়া বা সংবাদপত্রগুলো। বলা হচ্ছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর খবর অনেক পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু এটাতো সম্পাদকীয় নীতি। একটা নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। একটা খবর কোনটা আগে হবে পরে হবে, তা নির্বাচন করা কিন্তু সম্পাদকের স্বাধীনতা।

এখানে প্রটোকল অনুযায়ী খবর দিতে গেলে আগে দিতে হবে প্রেসিডেন্টের খবর, তারপর প্রধানমন্ত্রীর, এরপর বিরোধীদলের। কিন্তু খবরতো দেয়া হয় গুরুত্ব অনুসারে।

প্রশ্ন: মন্ত্রী পরিষদে কি আলোচনা হয় বা প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা এসব সম্পর্কে জানানোতো সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না?

রিয়াজউদ্দিন আহমেদ: বিষয়টিকে খুবই নেতিবাচক হিসেবেই দেখছি। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মানেই হল, ফ্রি এক্সসেস টু ইনফরমেশন। এখন যদি সেই ফ্রি এক্সসেস টু ইনফরমেশন রেস্ট্রিক্ট করা হয়, বাধাগ্রস্ত করা হয়, তাহলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকেই বাধাগ্রস্ত করা হয়। এখন সরকারের পক্ষ থেকে তাদের কোনো অনুষ্ঠানে যেতে না দেয়া হয়, এটা একধরনের চাপ সৃষ্টি করা এবং সেই চাপের কারণ হল, বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর খবর যথাযথভাবে প্রচারিত হয় না মানে নিউজের গুরুত্ব দেয়া হয় না, অনেকে ক্ষেত্রে প্রথম নিউজ না হয়ে, যেটা পাঁচ নম্বর, ছয় নম্বর, সাত নম্বর নিউজ হয়ে যায়। এই কারণেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যে সাংবাদিকদের শিক্ষা দেয়া। যে আমাদের খবর ঠিকমত না দিলে আমরা খবর দেব না। তো খবর না দিলে সংবাদপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে, জনগণ জানতে পারবে না। কিন্তু সরকার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রশ্ন: সাংবাদিকদের জন্যে দরজা বন্ধ করা কি বিপদজনক নয়, গণতন্ত্র চর্চাতো বন্ধ হয়ে যাবার ভয় থাকে?

রিয়াজউদ্দিন আহমেদ: শুধু তা নয়, প্রচণ্ড গুজবের সৃষ্টি হতে পারে। তথ্য বিকৃতি ঘটতে পারে। যেগুলো সরকারকে আরো নাজুক অবস্থায় ফেলে দিতে পারে। এ ব্যাপারটা সরকারকে বিবেচনা করে দেখতে হবে। ওই জন্যে ফ্রি ফ্লো অব ইনফরমেশনের যে ধারণাটা, এ থেকে এসেছে যদি তথ্য গোপন করা হয়, তাহলে তথ্যের বিকৃতি ঘটে এবং সমাজে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। যার ফলে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব পর্যন্ত হুমকির মুখে পড়তে পারে। সরকারের জন্যেতো বিব্রতকর অবস্থা হবেই।

যে পদক্ষেপটা নিয়েছে যে, সাংবাদিকদের আমরা এখানে আসতে দেব না। এটা একধরনের সেন্সরশীপ আপনি বলতে পারেন। এই সব পদক্ষেপের মাধ্যমে যদি সংবাদপত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়, সরকার প্রধানের খবর সবার আগে যেতে হবে, এটাতো কেউ মেনে নেবে না। কারণ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের একটা সম্পাদকীয় নীতি থাকে। গুরুত্ব অনুসারে সংবাদের ক্রমানু সাজানো হয়। সেখানে প্রেসিডেন্ট সবার শেষে যেতে পারে। আবার একজন অর্ডিনারি লোকের খবরও এক নম্বর হয়ে যেতে পারে। এটা খবরের গুরুত্বের ওপর নির্ভর করে। প্রধানমন্ত্রীর খবর অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এবং প্রধানমন্ত্রীর খবর খাঁটো করে কিন্তু গণমাধ্যম খবর দিচ্ছে না। এবং দিবেও না। কিন্তু সেখানে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমি মনে করি এটার অবসান হওয়া উচিত। এবং সরকারের দিক থেকে ধৈর্যের সাথে গণমাধ্যমকে মোকাবেলা করা দরকার। গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরে কেউ সফল হতে পারে নাই। সেদিন তথ্যমন্ত্রী বললেন, গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার ক্ষমতা কারো নেই, আমিও তাই বিশ্বাস করি।

প্রশ্ন: এই সরকার মিডিয়াকে সব সময় গুরুত্ব দেয়, অনেকগুলো টেলিভিশনের লাইসেন্স দিয়েছে, সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে আওয়ামী লীগ বা সরকারের নিউজ কাভার করতে কোনো অসুবিধায় পড়েন না, হঠাৎ এমন কি পরিস্থিতি সৃষ্টি হল যে, প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান থেকে সাংবাদিকরা বঞ্চিত হবে?

রিয়াজউদ্দিন আহমেদ: নরমালি সরকার যখন দেশ পরিচালনায় সফলতার পরিচয় দিতে পারে না এবং সরকারের ওপর নানান রকম চাপ সৃষ্টি হয়, তখনি সরকার ধৈর্য হারিয়ে ফেলে, ধৈর্য হারিয়ে ফেললেই কিন্তু  এধরনের পদক্ষেপ নেয় যেটা গণতন্ত্রের জন্যে সহায়ক নয়, বরং গণতন্ত্রের পরিপন্থী।

প্রশ্ন: কিন্তু মিডিয়া প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করার অর্থ এই নয় যে তার শত্রুতা করা? আর সমালোচকরা দূরে সরে গেলেতো স্তাবকরা চারপাশে ঘিরে ফেলবে?

রিয়াজউদ্দিন আহমেদ: মনে করলেতো কিছু করার নেই। সংবাদপত্রতো সত্যকে সত্যই বলবে। মিথ্যা বলারতো কোনো উপায় নেই। এখন যারা মিথ্যা বলে, যারা হলুদ সাংবাদিকতা করে তাদেরকে মোকাবেলার জন্যেওতো ব্যবস্থা আছে। প্রেসকাউন্সিল আছে, ল’ আছে সেগুলো প্রয়োগ করতে পারে। কিন্তু খবর বন্ধ করে দিয়ে এটাতো কোনদিন হতে পারে না। মাথায় ব্যথা হলে ওজন্যে মাথা কেটে ফেলব, এটাতো মানে সুস্থ লক্ষণ নয়।

রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/বিশেষ প্রতিনিধি/আরআই_ ১৭৪০ ঘ.

Acting Editor: Elias Hossain, Golam Rasul Plaza (2nd Floor), 404 Dilu Road, New Eskaton, Dhaka-1000
Phone: +880-2-8312857, Fax +880-2-8311586, News Room Mobile: +880-1674757802; Email: rtnnimage@gmail.com